ঘূুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় প্রস্তুতি গ্রহণ

ঘূুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় প্রস্তুতি গ্রহণ

 জেলার উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র আঘাত মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ২৭০ টি আশ্রয়শিবির প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১২৫২ টি স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ফাঁকা করে রাখা হয়েছে।
সাতক্ষীরায় আজ সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। এখনো সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টির সাথে মৃদু বাতাস বইছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০নং সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
‘বুলবুলে’র সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ মোকাবেলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জসহ সাতটি উপজেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষদের সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে আসার কাজ চলছে। সুন্দরবন সংলগ্ন মাহমুদা, কালিন্দি, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীতে এক থেকে দু’ ফুট পানি বেড়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষজন ও যানবাহন চলাচল কম রয়েছে। মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচারণা চলছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান জানান, স্বেচ্ছাসেবক, ইউপি সদস্য, শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের সহায়তায় এলাকার মানুষকে আশ্্রয় শেল্টারে নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড ও নৌ বাহিনীর সদস্যরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলিফ জানান, গুড়ি গুড়ি বর্ষা হচ্ছে। এলাকার মানুষকে আশ্্রয়কেন্দ্রে নেয়ার চেষ্টা চলছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ২৭০ টি আশ্রয়শিবির প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১২৫২ টি স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ফাঁকা করে রাখা হয়েছে। শ্যামনগর ,আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার জনগণকে শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে এসব আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ কবলিতদের সহায়তায় ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ২৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, পানীয় জল, ওষুধপত্র, ৫ লাখ ১০ হাজার নগদ টাকা মজুদ রাখা হয়েছে। রেডক্রিসেন্ট , স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, মেডিকেল টিম, নৌ ও স্থলযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে পুলিশ, বনবিভাগ ,কোস্টগার্ড, র‌্যাব ও বিজিবির পক্ষ থেকেও উপকূলীয় এলাকায় বুলবুল মোকাবেলায় আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )