মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির এ দেশে রাজনীতি করা সমীচীন নয় : তথ্যমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির এ দেশে রাজনীতি করা সমীচীন নয় : তথ্যমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির এ দেশে রাজনীতি করা সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির এ দেশে রাজনীতি করা সমীচীন নয়। দেশকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকবে, আবার বিরোধী দলও হবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি।’
তথ্যমন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহরে এলজিইডি ভবনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং সাবেক এমপি ও রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের পরিচালনায় স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এমপি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সংরক্ষিত আসনের এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক মঈন উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, মরহুমের সন্তান আসিফুল সোহাগ সাকিব।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আগামী বছর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও একটি দেশে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি থাকবে, তারা রাজনীতি করবে, এটা হওয়া উচিত নয়। যারা দেশটাই চায়নি, দেশের পতাকাটাই চায়নি, যারা দেশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও তারা রাজনীনিতিতে থাকবে, কোন দেশেই তা সমীচীন নয়।
রাজনীতিতে প্রচন্ড সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ প্রক্রিয়াটির সূচনা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি ক্ষমতা দখল করার জন্য রাজনীতিবিদদের কেনাবেচার হাট বসিয়েছিলেন। মওসুমে যেমন খেলোয়াড় বিক্রি হয় ঠিক সেইভাবে অনেক রাজনীতিবিদ বিক্রি হয়েছিল। সেইভাবেই গঠিত হয়েছিল বিএনপি। আজকে যারা বিএনপির বড় বড় নেতা, তারা সবাই খেলোয়াড়দের মতো রাজনীতির হাটে বিক্রি হওয়া রাজনীতিক।
বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদসহ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রামের যারা বিএনপির বড়বড় নেতা তারাও অন্যদল করতেন। আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগেও যোগদান করতে চেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগে যোগদান করতে না পেরে তারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
এরা সবাই রাজনীতির মাঠে বিক্রি হওয়া ও সুবিধাবাদি রাজনীতিবিদ এবং সুবিধাবাদীদের সমন্বয়ে গঠিত রাজনৈতিক দলের নাম হচ্ছে বিএনপি-বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে যে নেতিবাচক রাজনীতি, এটি যদি বাংলাদেশে না থাকতো এবং সময়ে সময়ে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি এটি যদি না থাকতো, তাহলে আজকে আমরা আরো বহুদূর এগিয়ে যেতে পারতাম। একই ভাবে গত ১১ বছর ধরে বিএনপি-জামায়াতের যে অপরাজনীতি, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি, সবকিছুতে ‘না’ বলার যে রাজনীতি, এই রাজনীতি যদি না থাকতো, তাহলেও দেশ আরো বহুদূর এগিয়ে যেতো।
অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদীরা যাতে দলকে গিলে ফেলতে না পারে সেদিকে কর্মীদের নজর রাখার উপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাবাদীমুক্ত আওয়ামী লীগ গঠন করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশসেবার জন্য, মানবসেবার জন্য, সমাজসেবার জন্য, সমাজ পরিবর্তনের জন্য, দেশের উন্নতির জন্য রাজনীতি যে একটি ব্রত, এটি অনেক রাজনীতিবিদ ভুলে গেছেন। মানুষও অনেকক্ষেত্রে মনে করে না রাজনীতি যে একটি ব্রত।
নুরুল আলম চৌধুরীকে তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেকে যখন আত্মগোপনে, অনেকে ভয়ে মুখ খুলছে না, অনেকে মোস্তাকের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, তখন পার্লামেন্টে পার্টির সভায় যে কয়জন মোস্তাকের এই কর্মকা-ের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের মধ্যে নুরুল আলম চৌধুরী একজন।
হাছান মাহমুদ বলেন, নুরুল আলম চৌধুরী ছিলেন তেমনই একজন রাজনীতিবিদ, যিনি রাজনীতিকে ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন এবং দল ও নেত্রীর প্রতি তিনি নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি কখনো দলের বিরুদ্ধে, নেতার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাননি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা যখন গ্রেপ্তার হন তখন অনেক নেতা বোল পাল্টিয়েছে। অনেক নেতা ভয়ে মুখ খোলেনি। অনেক নেতা তখন ক্ষমতাসীনদের সাথে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু নুরুল আলম চৌধুরী সেই কাজটি করেননি। তাই, নুরুল আলম চৌধুরীর জীবন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বলে বলেন তিনি।

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus (0 )