শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতের সিরিজ জয়

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতের সিরিজ জয়

বিশ্বকাপের মহড়ায় সফল বিরাটের তরুণবিগ্রেড৷ প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ ২-০ জিতে নিল ভারত৷ শুক্রবার তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৭৮ রানে হারিয়ে হাসতে হাসতে ম্যাচ ও সিরিজ পকেটে পুরে নেয় কোহলি অ্যান্ড কোং৷ ম্যাচের সেরা শার্দুল ঠাকুর ও সিরিজের সেরা নভদীপ সাইনি৷

ইন্দোরে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে থাকায় এদিন পরীক্ষানিরীক্ষায় গিয়েছিল ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক৷ তাতে সফল টিম ইন্ডিয়া৷ রোহিত শর্মাকে বিশ্রাম দিয়েও হাসতে হাসতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ জিতে নিল বিরাটবাহিনী৷ ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিল ভারত৷ এদিন পুণের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে ২০২ রান তাড়া করতে গিয়ে ১২৩ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা৷

১৫.৫ ওভারে লঙ্কা ইনিংসকে শেষ করে দেন ভারতীয় বোলাররা৷ শ্রীলঙ্কা ইনিংসে মাত্র দুই ব্যাটসম্যান দুই অংকের রানে পৌঁছতে সক্ষম হন৷ ভারতের তরুণ পেস ব্যাটারির সামনে কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা৷ ধনঞ্জয় ডি’সিলভা ৫৭ ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ ৩৭ রান করেন৷ বাকিদের কেউ দু’ অংকের রানে পৌঁছতে পারেননি৷ ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ভয়ংকর ছিলেন নভদীপ সাইনি৷ ৩.৫ ওভারে মাত্র ২৮ রান খরচ করে তিনটি উইকেট তুলে নেন হরিয়ানার এই ডানহাতি পেসার৷ এছাড়া দু’টি করে উইকেট নেন শার্দুল ঠাকুর ও ওয়াশিংটন সুন্দর৷

এদিন টস জিতে ভারতকে ব্যাটিং করতে পাঠিয়ে ছিলেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক লসিথ মালিঙ্গা৷ কিন্তু ব্যাটিং সহায়ক দারুণ শুরু করেন ভারতীয় ওপেনাররা৷ ওপেনিং জুটুতে ৯৭ রান যোগ করেন লোকেশ রাহুল ও শিখর ধাওয়ান৷ পাওয়ার প্লে-তে কোনও উইকেট না-হারিয়ে ৬৩ রান তুলেছিল টিম ইন্ডিয়া৷ আর শেষ ওভারে ১৯ রান তুলে দু’শো রানের গণ্ডি টপকে যায় ভারত৷ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০১ রান তোলে ‘মেন ইন ব্লু’৷

ভারতের দুই ওপেনারই হাফ-সেঞ্চুরি করেন৷ তবে ডাগ-আউটে ফেরার আগে ৩৬ বলে ৫২ রান করেন ধাওয়ান৷ ইনিংসে সাতটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা হাঁকান টিম ইন্ডিয়ার এই বাঁ-হাতি ওপেনার৷ সমসংখ্যক বল খেলে ৫৪ রান করে স্টাম্প-আউট হন রাহুল৷ শুরুতে ধাওয়ানের থেকে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন রাহুল৷ ইনিংসে পাঁচটি চার ও একটি ছয় মারেন৷

তবে এদিন তিন নম্বরে ঋষভ পন্তের পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া সঞ্জু স্যামসন ব্যাটিং করতে নামায় টিম ম্যানেজমেন্ট৷ ক্রিজে এসেই প্রথম বলে ছক্কা হাঁকালেও দ্বিতীয় বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ডাগ-আউটে ফেরেন তিনি৷ চার নম্বরে নিজে না-এসে মনীশ পাণ্ডেকে পাঠান কোহলি৷ এসেই বাউন্ডারি মেরে খাতা খোলেন কর্নাটকের এই মারকুটে ব্যাটসম্যান৷ মনীশ দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেও পাঁচ নম্বরে এসে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৪ রানে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন শ্রেয়স আইয়ার৷ ছ’ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা দারুণ করলেও সুইসাইড রান-আউট হয়ে ডাগ-আউটে ফেরেন কোহলি৷ ১৭ বলে ২টি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা মারেন বিরাট৷

মিডল-অর্ডারে ভারত দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও মনীশ ও শার্দুলের ঝোড়ো ইনিংসে দু’শো রানের গণ্ডি টপকে যায় ‘মেন ইন ব্লু’৷ ১৮ বলে চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩১ রানের অপরাজিত থাকেন মনীশ৷ আর বলে ৮ বলে দু’টি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি-সহ ২২ রানের ধামাকাধার ইনিংস খেলেন শার্দুল৷ গুয়াহাটিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও ইন্দোর ও পুণেতে জিতে সিরিজ পকেটে পুরে নিল বিরাটবাহিনী৷ ১৪ তারিখ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ খেলতে নামছে টিম ইন্ডিয়া৷

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus (0 )