সংগীতের সাধনায় এস,এম মোজাম্মেল হোসেন শওকত

জানুয়ারি ০৫ ২০২১, ১৬:২১

শেখ সিরাজুল ইসলাম : এস,এম, মোজাম্মেল হোসেন (শওকত) একজন সংগীতপ্রিয় মানুষ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মুন্সিবাড়ির প্রয়াত এস, এম মজনু হোসেনের কনিষ্ঠ সন্তান। ২৯ তম বিসিএস অল ক্যাডার এসোসিয়েশনের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল শওকত বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। সরকারি চাকুরিতে তিনি ডেপুটি জেলার পদে কর্ম জীবনে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২৯তম বিসিএস এর মাধ্যমে সরকারি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। তিনি ২০১৬ সালে ৩৪ তম বিসিএস পরীক্ষায় নন-ক্যাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তিনি সরকারি চাকুরীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গানের সাথে সখ্যতা গড়েছেন দরদ দিয়ে। সংগীত যেন তার সংসার! তাইতো গানের মানুষকে করেছেন জীবনসঙ্গিনী। ক্লোজ আপ তারকা মোসাঃ রাবেয়া খানম খুশবু তাঁর স্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন তাঁর সংগীত চর্চা শুরু হয়েছিলো ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কবি খালেদ হোসাইন,অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালি, অধ্যাপক খোরশেদ আলম ও সদ্য প্রয়াত অধ্যাপক কবি হিমেল বরকত তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি আরো বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাস, তার সংগ্রামমুখর জীবন, চরম দারিদ্র্য ও বঞ্চনা তাকে সংগীতের প্রতি বিশেষভাবে অনুরাগী করে তোলে। তারপর বাংলা বিভাগ, মুক্ত মঞ্চ ও অডিটোরিয়ামে গান গাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতেন না। শুরুর দিকে গাওয়ার সুযোগ পাওয়ার ব্যপারে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে তারঁ। যে স্মৃতি এখনো পীড়া দিয়ে যায় শিল্পীকে। ক্যাম্পাসে “গ্রামীণফোন পথে পথে” নামের মিউজিক ব্যান্ডের আহ্বানে নন্দিত শিল্পী খুরশিদ আলমের জনপ্রিয় “চুমকি চলেছে একা পথে “গানটি পরিবেশন করেন তিনি। পরবর্তীতে উল্লাস একাডেমিসহ অনেক সংগীত দলে গান করছেন তিনি। সাভার ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে গৃহশিক্ষক হিসাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জনৈক সেনা কর্মকর্তার মেয়েকে পড়াতেন। ছাত্রীর মায়ের সহযোগিতায় ওই বাসায় ছাত্রীর গানের শিক্ষক ওস্তাদ কার্তিক বাবুর কাছে প্রথম সংগীতের তালিম নেন। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে অবস্থিত সঙ্গীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে তিন বছর মেয়াদী সংগীত বিষয়ক একটি কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে সনদপত্র অর্জন করেন। সেখানে ওস্তাদ বাবু রহমানের কাছে তিনি ধ্রুপদী সংগীত ও পল্লীগীতির উপর সুর, তাল, লয় রপ্ত করেন। সেখানে তত্বীয় ও ব্যবহারিক সংগীত বিষয়েও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। সে সময়ের তাঁর সতীর্থরা বর্তমানে অনেকেই প্রতিষ্ঠিত সংগীত শিল্পী। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ নভেম্বর ডেপুটি জেলার হিসেবে বাংলাদেশ জেল বিভাগে যোগদান করার পরে সংগীত চর্চার সুযোগ প্রসারিত হতে থাকে। কিশোরগঞ্জের ডেপুটি জেলারের দায়িত্ব পালনকালে সেখানকার শিল্পকলা একাডেমির তবলা বাদক সন্দীপ বাবুর কাছে তবলা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন। সেখানে বাক্কার ওস্তাদের কাছে প্রথম হারমোনিয়ামে সকল গান বাজানোর কৌশল ও দক্ষতা অর্জন করেন। কারা সপ্তাহ ও জাতীয় দিবসগুলোতে তিনি নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করতেন। কক্সবাজার জেলা কারাগারেও নববর্ষসহ বিভিন্ন দিবসে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কারাবন্দীদেরকে বিনোদন দিয়েছেন। ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ৩১ জুলাই ডেপুটি জেলারেরর চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে একই বছরের ১ আগস্ট (২৯তম বিসিএস) চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিলো। সেখানে তিনি ওস্তাদ বিষ্ণুপদ ভট্টাচার্যের নিকট তবলার বিভিন্ন কায়দা, তেহাই, কাহারবা, দাদ্রা, ত্রিতাল, একতাল ও ঝাপতাল সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে ১৩৮তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স উপলক্ষে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে যথাক্রমে লোকসংগীতে ২য় স্থান এবং দেশাত্মবোধক গানে ৩য় স্থান অর্জন করেছেন। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে নবীনগর সরকারি কলেজে যোগদান করেন। উপমহাদেশের বিখ্যাত সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্মভূমি নবীনগরে অনেক গুণী সংগীত শিল্পীদের সাথে সখ্যতার সুবাধে সেখানকার শিল্পকলা একাডেমিতে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর নাতি কুতুবউদ্দিন খাঁ সহ অন্যান্য শিল্পীদের নিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সংগীত চর্চা করতেন। সেখানকার কৃষিবিদ শহীদুল ইসলামের পরিচালিত “মনন” সাংস্কৃতিক সংগঠনে সংগীত চর্চার অবারিত সুযোগ ছিল। তাছাড়া সরকারি কলেজের অভ্যন্তরীণ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে বদলি হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে যোগদান করেন। পরবর্তীতে শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক বিভূতিভূষণ দেবনাথসহ অনেক সহকর্মী সংগীত চর্চায় সহযোগিতা করেন। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শিল্পী সংসদের সাথে যুক্ত হন। নিজের শহরে অবস্থানকালে বিটিভির সংগীত পরিচালক আলী মোসাদ্দেক মাসুদের কাছে আধুনিক ও লোক সংগীত সম্পর্কে নিয়মিত তালিম নিতেন। তাঁর সংগীত পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. খন্দকার মুশাররফ হোসেন শিল্পী মোজাম্মেল শওকতকে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগিতায় একজন বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি আধুনিক গান, লোকসংগীত, দেশাত্মবোধক গান, রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত ও ধ্রুপদী সংগীতের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সফলভাবে বিচার কার্য সম্পন্ন করেন। তিনি নিয়মিত সংগীতের চর্চা অব্যাহত রেখেছেন।সংসার আর সংগীত তার কাছে একাকার। সংগীতপ্রিয় শওকত সংগীতজগতে খ্যাতি অর্জন করবেন, তার গান ছড়িয়ে দেবেন সকলের কাছে এমনটা তাঁর স্বপ্ন। আর এ স্বপ্নের বাস্তবায়নে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। স্বপ্নের সারথী হয়ে পাশে আছেন স্ত্রী ক্লোজ আপ তারকা রাবেয়া খানম খুশবু।

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১