শেরপুরের প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন সবজি বাজারে আসছে

নভেম্বর ২৩ ২০২০, ১৬:২৭

দেশে সবজি বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেরপুর জেলা থেকে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিকটন শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। চলতি বছর বন্যায় সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বন্যার পানি চলে যাওয়ায় জমিতে যে উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে কৃষকের সবজি উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
অন্যদিকে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে দেশের বাজারে পর্যায়ক্রমে যোগ হবে এ জেলার দুই লাখ ৯৯ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন সবজি।
শেরপুর জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মহিত কুমার দে বাসসকে জানান, এবার রবি মৌসুমে শেরপুর সদরসহ ৫টি উপজেলায় আট হাজার ৫৬২ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে বেগুন আবাদ করা হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ হাজার ২০০ মেট্রিক টন।
টমেটো ৭৮০ হেক্টরে ২১ হাজার ৮৩ মেট্রিক টন, শিম এক হাজার ২৯০ হেক্টরে ১৭ হাজার ৯০৫ মেট্রিক টন, ফুলকপি ৩৭৫ হেক্টরে নয় হাজার ৭৩৯ মেট্রিক টন, বাঁধাকপি ৩৬৭ হেক্টরে ১৪ হাজার ৮৬৪ মেট্রিক টন, মূুলা ৫৮৫ হেক্টরে ১৩ হাজার ৬৪২ মেট্রিক টন, লাউ ৮৫০ হেক্টরে ২৯ হাজার ৩০৮ মেট্রিক টন, চাল কুমড়া ২৯৭ হেক্টরে আট হাজার ১২৫ মেট্রিক টন, মিষ্টি কুমড়া ৪০০ হেক্টরে ১৪ হাজার ৮৭২ মেট্রিক টন, পটল ১০৫ হেক্টরে ২১ হাজার ৬৫ মেট্রিক টন, বরবটি ৬২ হেক্টরে ৯৫৫ মেট্রিক টন, শসা ৬১৫ হেক্টরে ১০ হাজার ৩৯৪ মেট্রিক টন, ঝিঙ্গা ২৩৭ হেক্টরে তিন হাজার চার মেট্রিক টন, ডাটা ৪২৫ হেক্টরে ১১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন, গোল আলু ৪৯৫০ হেক্টরে এক লাখ তিন হাজার ৭০ মেট্রিক টন, কাকরোল ৭২ হেক্টরে ৭৩০ মেট্রিক টন, গাজর ১৬১ হেক্টরে দুই হাজার ৮৭২ মেট্রিক টন, লাল শাক ২৮৮ হেক্টরে তিন হাজার ৫৮৬ মেট্রিক টন, চিচিঙ্গা ১২৭ হেক্টরে দুই হাজার ৬২৮ মেট্রিক টন, পুঁই শাক ৫৫ হেক্টরে ৩১০ মেট্রিক টন, গিমাকলমি ২৮ হেক্টরে ২২২ মেট্রিক টন, পালং শাক ৮৪ হেক্টরে ৩৪৫ মেট্রিক টন, ধনিয়াপাতা ১৫ হেক্টরে ১৪ হাজার ৩১ মেট্রিক টন, খিরা এক হেক্টরে পাঁচ মেট্রিক টন, করলা ২২৫ হেক্টরে চার হাজার ৯৫৫ মেট্রিক টন, মটরশুটি ৩৬৭ হেক্টরে ১৪ হাজার ৮৬৪ মেট্রিক টন, পেঁপে ৩০ হেক্টরে ৭১০ মেট্রিক টন, ধুন্দল ৪৫ হেক্টরে ৩০০ মেট্রিক টন, সজিনা ১০ হেক্টরে ৮৮ মেট্রিক টন, মুখী কচু ১৮০ হেক্টরে ৩ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন, গাছ আলু ১৯ হেক্টরে ১৪০ মেট্রিক টন, ওল ৩৭ হেক্টরে ৪৬৩ মেট্রিক টন, পঞ্চমুখী ২৫ হেক্টরে ৫৬৫ মেট্রিক টন, পানি কচু ১২৫ হেক্টরে ২ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন, মরিচ (কাঁচা) ৪৪৫ হেক্টরে ৩ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন, মরিচ (শুকনা) ৫১৫ হেক্টরে এক হাজার ৩০ মেট্রিক টন, পেঁয়াজ ৬৭০ হেক্টরে ৬ হাজার ৬৯৮ মেট্রিক টন, রসুন ৩০০ হেক্টরে এক হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, আদা ৪৪০ হেক্টরে ৭২০ মেট্রিক টন, হলুদ ৭৬৪ হেক্টরে ১৪ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন, আন্যান্য ১০২ হেক্টরে দুই হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং ওই সময়ে দাম স্থানীয় পর্যায়ে আসবে। এবার বন্যার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকেই সবজি আবাদ বাদ দিয়ে সরিষা, ডাল, তেল ও মসলা জাতীয় পণ্য উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।
শেরপুর সদর উপজেলার বলাইরচর ইউনিয়নের কৃষক রহিম মিয়া বলেন, প্রায় প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে আগাম সবজি উৎপাদন করে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ নানা জেলায় শেরপুরের সবজি সরবরাহ হতো। কিন্তু গেল বন্যার কারণে তাদের প্রস্তুতকৃত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বন্যা পরবর্তী সময়ে তারা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলেও সবজি ক্ষেতে দেখা দেয় পোকা আর ছত্রাকের আক্রমণ। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ শীতকালীন সবজি সরবরাহে তারা ব্যর্থ হন। এ সময় স্থানীয়দের নির্ভর করতে হয় জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার গারো পাহাড়ে উৎপাদিত সবজির উপর।
সবজি পাইকারী বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, প্রতি বছর শীতকালীন সবজি বিক্রি করে মোটামোটি ভালই লাভ হতো। কিন্তু এবার আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’’ হয়েছি। কিন্তু বাজারে নতুন সবজি আসাতে এখন আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১